
তিনটি সাম্প্রতিক কবিতা
===================
মধ্যাহ্নের সাথে আলাপ
--------------------------
১
নগ্ন আকাশ দেখি দ্বিতীয় আভায়। প্রাচীন পতঙ্গগুলো গোল
হয়ে তাকাচ্ছে সেই নগ্নতার দিকে। আমি দর্শক নই , তবু
উঁকি দিয়ে দেখি, কারা এসে মিলিত হয়েছে এই আশ্রম
সীমানায়। কীভাবে লিখিত হচ্ছে বিশ্রামের তন্দ্রানিয়মাবলী।
আরো এসেছেন দেখতে যারা , তারা সবাই বিশিষ্ট নাট্যজন।
নীড় নিয়ে খেলা করাই কাজ তাদের। কখনও হাসিয়ে যান।
কখনও কাঁদার দরোজা উন্মুক্ত করে দেন অবারিত হাতে।
তাদেরকেও দেখে নিয়ে আমি, নেমে যাই চর্যাপদ কুড়াতে।
২
জমিয়ে রেখেছি কটি পিনপতনের শব্দ। হাতে আছে কফির
গরম ধোঁয়া। নিম্নগামী তারা ছুঁয়ে যাচ্ছে যে টিয়ে পাখি ,তাকে
প্রশ্ন করছি গন্তব্য জানতে চেয়ে।মাঝে মাঝে আমি এমন অনেক
কিছুই জানতে চাই বৈশাখী তান্ডবের কাছে, শ্বেতাঙ্গ সমুদ্র
আর কালো পাহাড়ের কাছে। মর্ত্যমনন এসে আমাকে বোধ
হয় সে জন্যই দেয় পাহারা। যাতে উন্মত্ত না হই। কিন্তু তার
পরও তো আমাকে কেউ থামাতে পারে না , যখন বলি তোমাকে –
বিছিয়ে দাও উত্তপ্ত জমিন। কয়েকটি মধ্যাহ্ন চাষ করে যাবো।
মনমিশ্রণ
------------
পুরু কাঁচের ছায়া নিয়ে খেলছে সূর্য। চাঁদের যৌনজীবন
নিয়ে শেষ কবিতাটি লেখা হচ্ছে মনিষার হাতে। ব্যাংলোর
নগরে বসে সে ই নিয়ন্ত্রণ করছে সবটুকু নির্জন গৌরব।
যারা শিখেছে উপস্থাপনবিদ্যা , তারাই পারছে আজকাল
সবকিছু, পারছে সূর্যকেই গিলিয়ে দিতে কয়েকফোটা
মেঘ। আর প্রকাশ্যে গাইছে সিটিসেলের মুগ্ধ জয়গান।
মানুষ কীর্তনের সন্ধ্যাকে কখনো নিজের প্রশস্থিগীতি
বলেই মনে করে। মদমিশ্রণে মনকে ডুবিয়ে দিয়ে
বার বার উপলব্ধি করতে চায় মিলননাট্যের সুপ্ত আবহাওয়া ।
সূত্র সমীপে লিখি বিনয় বন্দনা
-------------------------------------
বদলে দেবার প্রত্যয় নিয়ে লিখি স্রোতজ সূত্র। আরেকবার মুগ্ধ
হয়ে দেখি অর্জনের বৃহস্পতি। গ্রহগুলো আমার বলয় থেকে পালিয়ে
ছিলো এতদিন। আজ আমি নাগালে পেয়ে এর মাঝে খুঁজে ফিরি
হারানো উত্থানের মুখ।
আমার সহযাত্রী যারা , তারা এর আগে লিখে গেছে তাদের প্রাপ্তি
নিয়মাবলী। হাতের কোদাল দিয়ে মাটি কেটে গড়েছে পুষ্পদ্বীপ।
সেখানে লাগিয়েছে গোলাপের চারা। পাহারা দিয়ে ফুটিয়েছে ফুল।
সূত্র সমীপে আমি লিখি সেই বিনয় বন্দনা, ছুঁয়ে যেতে পরাগ সমূল…

No comments:
Post a Comment